একজোড়া চোখ খোঁজে আরেকজোড়া চোখকে

একজোড়া চোখ খোঁজে আরেকজোড়া চোখকে

এক রাতে বরিগুদার জুডিথ ডারহাম অদভুত এক সবপন দেখে। পরথম পরথম কেউ পাততা দেয়নি। সবপন তো অনেকেই দেখে, অ?...

DownloadRead Online
Title:একজোড়া চোখ খোঁজে আরেকজোড়া চোখকে
Author:জাহিদ হোসেন
Rating:
Edition Language:Bengali

একজোড়া চোখ খোঁজে আরেকজোড়া চোখকে Reviews

  • Wasee

    লাভকরযাফটিয়ান হরর ঘরানায় নিঃসনদেহে বাংলাদেশের পরথম কাজ :)

    পরথমে বড় গলপ হিসেবে লেখা হলেও, পরবরতীতে উপনযাসিকায় রূপ দেয়া হয়। লেখক এবং আমি (এবং আমাদের আরো কয়েকজন বনধু) এইচ পি লাভকরযাফটের পরথম সারির ভকত হওয়ায়, শুরু থেকেই বেশ উততেজিত ছিলাম সবাই। তারই ফলশরুতিতে পাণডুলিপি শেষ হওয়ার পর, যথেষট আগরহ সহকারে বইটা পড়ে ফেলেছিলাম আমরা। তাও পরায় চার মাস আগের কথা! (তেল মেরে নেয়া না, লেখক তার বনধুদেরকে নিজেই পড়তে দিয়েছিলেন :P)

    অনেকগুলো কারণে বইটা ভালো লেগেছিল। এর পেছনে দকষ লেখনভঙগি, নিরীকষাধরমী কাজসহ আরও কিছু বযাপার

    লাভক্র্যাফটিয়ান হরর ঘরানায় নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের প্রথম কাজ :)

    প্রথমে বড় গল্প হিসেবে লেখা হলেও, পরবর্তীতে উপন্যাসিকায় রূপ দেয়া হয়। লেখক এবং আমি (এবং আমাদের আরো কয়েকজন বন্ধু) এইচ পি লাভক্র্যাফটের প্রথম সারির ভক্ত হওয়ায়, শুরু থেকেই বেশ উত্তেজিত ছিলাম সবাই। তারই ফলশ্রুতিতে পাণ্ডুলিপি শেষ হওয়ার পর, যথেষ্ট আগ্রহ সহকারে বইটা পড়ে ফেলেছিলাম আমরা। তাও প্রায় চার মাস আগের কথা! (তেল মেরে নেয়া না, লেখক তার বন্ধুদেরকে নিজেই পড়তে দিয়েছিলেন :P)

    অনেকগুলো কারণে বইটা ভালো লেগেছিল। এর পেছনে দক্ষ লেখনভঙ্গি, নিরীক্ষাধর্মী কাজসহ আরও কিছু ব্যাপার আছে। পরিচিত এবং বন্ধুশ্রেণির লেখকদের মাঝে নিজেদের পাণ্ডুলিপি বিষয়ক আলোচনা অথবা প্রকাশের আগেই একজন আরেকজনের লেখা পড়ে ফেলাটা, নতুন কিছু নয়। বইয়ের ঘোষণা আসার অপেক্ষায় ছিলাম, গুডরিডসে সংযুক্ত হওয়া মাত্র প্রতিক্রিয়া জানানোর জন্য হাত নিশপিশ করছিল। আর তাই দেরি না করে...

    অপ্রাসঙ্গিক অথবা প্রাসঙ্গিক-যেদিক থেকেই বলিঃ সমাজে একদল মানুষ আছে, যারা অন্যের কর্মকান্ডের মাঝে নিজের ছায়া দেখতে পায়। রাস্তায় যখন কেউ অন্য কারও পেছন পেছন হেঁটে যায়, সেই দৃশ্যটা পকেটমারের চোখে পড়লে সে ভাবে - আরে, পেছনের ব্যাটা বুঝি আমার মতই পকেট্মার। ভদ্র ভাষায় বললাম, অসংখ্য উদাহরণ চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে :)

    তাই "তৈলশিল্পিরা" যে সাধারণ ব্যাপারকেও নিজের কাতারে ফেলে বিচার বিশ্লেষণে যাবে, সেটাই স্বাভাবিক!

    চৈনিক দার্শনিক সিওয়া ফিং রা'র একটি উক্তি উল্লেখ করতে হয় -

    "গুড়াকৃমির স্বভাব জেনে রেখো, মানব সন্তান। তারা মানুষের গুহ্যদ্বারে কিলবিল করে পুষ্টি আস্বাদন করে থাকে। ডিম থেকে জন্ম নেয়ার পর, তাদের পরিচিত পরিবেশ অথবা বাসস্থান বলতে শুধু সেই দুর্গন্ধময় নোংরা বিষ্ঠা সম্বলিত ক্ষুদ্রান্ত্র, বৃহদান্ত্র, মলাশয়।

    অত:পর, সুশোভন অথবা সুন্দর কোন কিছুকে এই গুড়াকৃমি সম্প্রদায় সহ্য করতে পারে না। তাদের চোখে-মুখে-মনে লেগে থাকা "বিষ্ঠা" কে চারপাশে ছড়িয়ে, কিলবিল করে এগিয়ে চলার প্রবণতাও তাই সৃষ্টির আদিকাল থেকে প্রবাহমান।

    তবে মনোরম স্থানে বিরাজ করার সুপ্ত বাসনাও সংগোপনে তাদের মনের আড়ালে লুকিয়ে থাকে। পথ খুঁজে না পাওয়ায় একসময় তারা নিম্মোল্লিখিত শ্লোগানে বিশ্বাসী হয়ে ওঠে-

    "বিষ্ঠা খাব, বিষ্ঠা ছোঁব, করিব কিলবিল,

    সুপ্ত আশা লুপ্ত হলে মৌচাকেতে ঢিল!

    চুলকে চুষে সামনে এগোই, বেশ তো কাটে দিন-

    গুহ্যদ্বারেই মৃত্যু হবে, রইবে না আর ঋণ।"

    - সিওয়া ফিং রা ; চৈনিক দার্শনিক (খ্রিস্টপূর্ব ৬৮৩-৫৪০ অব্দ)

  • Ponchom Nosib

    একজন লেখকের একটা নিরদিষট লেখার পযাটারন থাকে। কোন লেখকই এই পযাটারনের উরধবে নয়। তবে মাঝে মাঝে অনেকে সেই পযাটারনের বাইরে গিয়ে হালকা একসপেরিমেনট করে থাকেন। আমার মতে জাহিদ হোসেন এই বইয়ে তা-ই করেছেন। এক কথায় বলতে গেলে তিনি পুরোপুরি সফল। বাংলাদেশে এর আগে লাভকরযাফটিয়ান হরর নিয়ে এতো চমৎকার কোন কাজ হয়েছে নাকি আমার জানা নেই। দীরঘদিন পর একটানে এই নভেলা শেষ করেছি আমি।

    আমার মতে ফিনিকসের পর এইটাই জাহিদ হোসেনের শরেষঠ বই। শুভকামনা থাকলো।

    বিঃ দরঃ এই রিভিউ দেখে অনেক "সাহিতযবোদধা" তথা "শাখামৃগ"দের চুলকানি উঠতে পারে।

    একজন লেখকের একটা নির্দিষ্ট লেখার প্যাটার্ন থাকে। কোন লেখকই এই প্যাটার্নের উর্ধ্বে নয়। তবে মাঝে মাঝে অনেকে সেই প্যাটার্নের বাইরে গিয়ে হালকা এক্সপেরিমেন্ট করে থাকেন। আমার মতে জাহিদ হোসেন এই বইয়ে তা-ই করেছেন। এক কথায় বলতে গেলে তিনি পুরোপুরি সফল। বাংলাদেশে এর আগে লাভক্র্যাফ্টিয়ান হরর নিয়ে এতো চমৎকার কোন কাজ হয়েছে নাকি আমার জানা নেই। দীর্ঘদিন পর একটানে এই নভেলা শেষ করেছি আমি।

    আমার মতে ফিনিক্সের পর এইটাই জাহিদ হোসেনের শ্রেষ্ঠ বই। শুভকামনা থাকলো।

    বিঃ দ্রঃ এই রিভিউ দেখে অনেক ‍‍"সাহিত্যবোদ্ধা" তথা "শাখামৃগ"দের চুলকানি উঠতে পারে। তারা বলবেন বই প্রকাশের আগেই কেন এই "তৈল মর্দণকারী" রিভিউ? তাদের জ্ঞাতার্থে বলতে চাই মানসিক ভাবে "অস্ট্রেলিয়ান গরুর ঘিলু" ধারণ না করে না করে দয়া করে চোখ কান খোলা রাখুন, কারণ লেখক তার পান্ডুলিপি বন্ধু-বান্ধদের পড়তে দেয়। এ নিয়ে রাজনীতি করার কিছু নেই।

  • সালমান হক

    তরীৎ, তরীৎ, তরীৎ.....

    বাংলাদেশি সাহিতযে লাভকরযাফটিয়ান হররের পরথম নিদরশন(হয়তো)। এবং পরথমেই বাজিমাৎ। গৎবাঁধা হররের বাইরের দুনিয়া থেকে ঘুরে আসতে চাইলে ঘুরে আসতে পারেন 'তাদের' জগত থেকে, যেখানে একজোড়া চোখ খোঁজে আরেক জোড়া চোখকে। :)

    ত্রীৎ, ত্রীৎ, ত্রীৎ.....

    বাংলাদেশি সাহিত্যে লাভক্র‍্যাফটিয়ান হররের প্রথম নিদর্শন(হয়তো)। এবং প্রথমেই বাজিমাৎ। গৎবাঁধা হররের বাইরের দুনিয়া থেকে ঘুরে আসতে চাইলে ঘুরে আসতে পারেন 'তাদের' জগত থেকে, যেখানে একজোড়া চোখ খোঁজে আরেক জোড়া চোখকে। :)

  • Shifat Mohiuddin

    সদয বইমেলা থেকে কিনে নিয়ে আসলাম। লেখক বইয়ের ফলযাপে নিজেই পরশন করেছেন নভেলাটি আদৌ হরর হয়েছে কিনা। হরর হয়েছে কিনা তা বলতে পারবো না, তবে লাভকরযাফটায়িন হরর যে হয়েছে তা নিশচিনতে বলতে পারি। লেখক দেশীয় পরেকষাপটে উদভট ঘটনাবলীকে সুনদরভাবে সাজিয়েছেন। বিদেশে ঘটা অদভুত ঘটনাগুলো শকতিশালী সমরথন দিয়েছে ঘটে যাওয়া সেই ঘটনাগুলোর উদভটতা বাড়াতে। অপারথিব 'তরীৎ' ভাষার পুনঃপুন বযবহার গায়ের রোম খাঁড়া করে দিয়েছে। ঘটনার বযাখযা ভালমত খুঁজে না পাওয়াই লাভকরযাফটায়িন হররের বড় শরত আর সেই শরত লেখক পুরোপুরি পালন করেছেন। বইয়ের শে

    সদ্য বইমেলা থেকে কিনে নিয়ে আসলাম। লেখক বইয়ের ফ্ল্যাপে নিজেই প্রশ্ন করেছেন নভেলাটি আদৌ হরর হয়েছে কিনা। হরর হয়েছে কিনা তা বলতে পারবো না, তবে লাভক্র‍্যাফটায়িন হরর যে হয়েছে তা নিশ্চিন্তে বলতে পারি। লেখক দেশীয় প্রেক্ষাপটে উদ্ভট ঘটনাবলীকে সুন্দরভাবে সাজিয়েছেন। বিদেশে ঘটা অদ্ভুত ঘটনাগুলো শক্তিশালী সমর্থন দিয়েছে ঘটে যাওয়া সেই ঘটনাগুলোর উদ্ভটতা বাড়াতে। অপার্থিব 'ত্রীৎ' ভাষার পুনঃপুন ব্যবহার গায়ের রোম খাঁড়া করে দিয়েছে। ঘটনার ব্যাখ্যা ভালমত খুঁজে না পাওয়াই লাভক্র‍্যাফটায়িন হররের বড় শর্ত আর সেই শর্ত লেখক পুরোপুরি পালন করেছেন। বইয়ের শেষে আধো সম্ভাবনা আর আশু বিপদের আধো সংকেত দিয়ে টেনশন আরো বাড়িয়ে দিয়েছেন লেখক। সব মিলিয়ে অত্যন্ত সুপাঠ্য আর ছমছমে একটা বই। এক ঘন্টায় শেষ করে অদ্ভুত একটা অনুভূতি হচ্ছে।

  • Asif Deepro

    ইদানিং অনেক বইয়ের কষেতরে যে সমসযাটা লকষয করছি, লেখকরা (অনেকে) গলপের narration আর dialogue এর ভিতর কেমন যেন পারথকয করতে পারেন না। যেটা দেখা যায় গলপের narration-এ যেসব শবদ বা যেমন বাকয বহার করছেন ডায়লগেও একই ধরনের শবদ বা বাকয বযবহার করছেন যা খুবই dissatisfying লাগে শুনতে বা পড়তে। আররেকটা বযাপার হল যেশিরভাগ চরিতরই তারা তৈরি করছেন খুবই one dimensional ভাবে। মানে যে ভালো সে ভালোই, যা খারাপ তার সব খারাপ। I believe human mind is anything but one dimensional. এসব কারণে অনেক ভালো ভালো পলটের বই-ই একদম uni

    ইদানিং অনেক বইয়ের ক্ষেত্রে যে সমস্যাটা লক্ষ্য করছি, লেখকরা (অনেকে) গল্পের narration আর dialogue এর ভিতর কেমন যেন পার্থক্য করতে পারেন না। যেটা দেখা যায় গল্পের narration-এ যেসব শব্দ বা যেমন বাক্য বহার করছেন ডায়লগেও একই ধরনের শব্দ বা বাক্য ব্যবহার করছেন যা খুবই dissatisfying লাগে শুনতে বা পড়তে। আররেক্টা ব্যাপার হল যেশিরভাগ চরিত্রই তারা তৈরি করছেন খুবই one dimensional ভাবে। মানে যে ভালো সে ভালোই, যা খারাপ তার সব খারাপ। I believe human mind is anything but one dimensional. এসব কারণে অনেক ভালো ভালো প্লটের বই-ই একদম uninteresting হয়ে যাচ্ছে। লেখক হয়ত অনেক কষ্ট করে অসাধারণ একটা প্লট ঠিকই দাড় করাচ্ছেন, কিন্তু execution হয়ে যাচ্ছে খুবই দুর্বল। এসব কথা এখানে বলার একমাত্র কারণ হল, আমি সকল নতুন লেখকদের অনুরোধ করব এ বইটা পড়ে দেখতে। This could a fine example of how you perfectly execute a plot.

  • Riju Ganguly

    একটা লেখা পড়া, আর সেটা রিভিউ করার মধযে বেশ কিছুটা ফাঁক রাখতে বলেন মহাজনেরা। তাতে নাকি লেখার নিরপেকষ মূলযায়ন সহজতর হয়।

    কিনতু এমন লেখাও আছে, যাদের নিয়ে মনে জমে ওঠা কথাগুলো তকষুনি লিখে না ফেললে পরবল অসবসতি হয়। মনে হয়, এত ভালো জিনিসের খবর অনযরা পাবে না? তা কীভাবে মেনে নেওয়া যায়?

    আলোচয বইটি ঠিক তেমন ধরনের।

    বাংলাদেশে রহসযরোমাঞচ ঘরানা, যাকে থৃলার বলে চিহনিত করা হয়, জাহিদ হোসেন পরিচিত নাম। কিনতু এই বইটি নিয়ে লিখতে বসে যে তাঁরও কিঞচিৎ বুক দুরদুর করেছিল, এ বযাপারে আমি নিশচিত।

    কেন জানেন?

    কারণ অদরীশ বরধনের "মোমে

    একটা লেখা পড়া, আর সেটা রিভিউ করার মধ্যে বেশ কিছুটা ফাঁক রাখতে বলেন মহাজনেরা। তাতে নাকি লেখার নিরপেক্ষ মূল্যায়ন সহজতর হয়।

    কিন্তু এমন লেখাও আছে, যাদের নিয়ে মনে জমে ওঠা কথাগুলো তক্ষুনি লিখে না ফেললে প্রবল অস্বস্তি হয়। মনে হয়, এত ভালো জিনিসের খবর অন্যরা পাবে না? তা কীভাবে মেনে নেওয়া যায়?

    আলোচ্য বইটি ঠিক তেমন ধরনের।

    বাংলাদেশে রহস্যরোমাঞ্চ ঘরানা, যাকে থৃলার বলে চিহ্নিত করা হয়, জাহিদ হোসেন পরিচিত নাম। কিন্তু এই বইটি নিয়ে লিখতে বসে যে তাঁরও কিঞ্চিৎ বুক দুরদুর করেছিল, এ ব্যাপারে আমি নিশ্চিত।

    কেন জানেন?

    কারণ অদ্রীশ বর্ধনের "মোমের মিউজিয়াম", বা 'আশ্চর্য!' পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন সাহিত্যিক ছাড়া বাংলায় লাভক্র‍্যাফটিয়ান হরর নিয়ে কেউ লেখেননি।

    এবং, শুনলে অনেকেই আমার মুণ্ডপাত করবেন জেনেও বলতে হচ্ছে, লাভক্র‍্যাফটের আসল ভয়, অর্থাৎ 'বডি হরর', যা ভূয়োদর্শীদের টেন্ট্যাকল পর্নের রাস্তা দেখিয়েছে, সেই শরীর বেহাত হওয়ার ব্যাপারটা বাংলা সাহিত্যে কেউ ধরতে পারেননি...

    এখনও পর্যন্ত।

    চলে আসুন আলোচ্য বইটিতে।

    নামকরা লেখক আসগরসাহেব অবস্থার ফেরে আশ্রয় নিলেন শহরতলীর এক ঝুপড়িতে। আপাতভাবে সব স্বাভাবিক, এমনকি লেখালেখিও শুরু হয়েছে টুকটাক।

    কিন্তু কয়েকটা ব্যাপারে ছন্দপতন হল।

    বস্তি এলাকার হাজামজা খালের শেষে একটা গুহা আছে। তাতে নাকি অদ্ভুতদর্শন জীবেরা আসে প্রতি অমাবস্যায়। উদ্ভট সুরে তারা কী যেন মন্ত্রের মতো করে বলে।

    তারা কারা? সত্যিই কি তারা অপহরণ করেছিল ল্যাংড়া সাচ্চুর সঙ্গী কবিরকে?

    পাশের ঝুপড়ির বাসিন্দা রাহেলার প্রতি যে আকর্ষণ অনুভব করেন আসগর, তা কি শুধুই শারীরিক?

    গবেষক রেহমান সিদ্দিক কী খুঁজছেন?

    আসগরের বহু পুরোনো কবিতা হঠাৎ করে কেন ফিরে আসছে হাজার বছর পুরোনো জিনিসের আলোচনায়?

    সংক্ষিপ্ত ভূমিকায় লেখক বলেছেন, এই বইটি "... কতটুকু লাভক্র‍্যাফটিয়ান হরর হয়েছে কিংবা আদৌ এটা হরর হয়েছে কিনা সে ব্যাপারে আমি নিশ্চিত নই।"

    আমার মতে এটি অত্যুৎকৃষ্ট লাভক্র‍্যাফটিয়ান হরর, কারণ এতে বডি হরর এবং ক্রূর মহাবিশ্বে ক্ষুদ্র মানুষের অসহায়তা অসামান্য চেহারায় ফুটেছে। এবং এই পুরো উপন্যাসে থুলু মিথোজ বা অন্য কোনো প্রাচীন দেবতাকে নিয়ে টানাটানি না করে একটি নতুন ধারণার সাহায্য নেওয়া হয়েছে।

    হ্যাঁ, অত্যন্ত দ্রুতগামী এই কাহিনিতে বেশ কিছু বর্ণনা সিরিয়াসলি ভয়োৎপাদক, এবং কাহিনির শেষে পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া নালাটাও যদি বিপজ্জনক ঠেকে, তাহলে পাঠককে দোষ দেওয়া যায় না। কিন্তু এই কাহিনি প্রেমেরও। এই কাহিনি একাকিত্বের। এই কাহিনি শূন্য একজোড়া চোখ নিয়ে আরেক জোড়া চোখ খোঁজার।

    বইটাকে অ্যালান মুর-এর নিওনমিকনের পাশেই রাখব। হ্যাঁ, ওই সম্মানটুকু বইটার প্রাপ্য।

    যদি কল্পবিজ্ঞান, হরর, বা প্রাপ্তমনস্ক পাঠকের জন্য লেখা বই পড়তে আগ্রহী হন, তাহলে এই বইটি আপনার অবশ্যপাঠ্য।

    পড়ে ফেলুন।

  • মাহাতাব রশীদ

    একবসায় টানা শেষ করে ফেলার মতো বই। গতানুগতিক হরর না, কিংবদনতী লেখক এইচ পি লাভকরযাফটের সৃষট কসমিক হরর/ লাভকরযাফটিয়ান হররের পরতি টরিবিউট করে লেখা নভেলা। লাভকরাফট জনরার মতোই ডিসটারবিং, উদভট আর বযাখযাতিত। ভিননসবাদের ঝরঝরে লেখা, গলপের গাঁথুনিও ভালো। সবমিলিয়ে ৫ এ ৩.৮।

    পুনশচ- এটা পড়ে লাভকরযাফটের পরতি আবার আগরহ জনমালো। দুই একটা গলপ ছাড়া তেমন কিছু পড়া হয়নাই, এইবেলা দেরী না করে একটানা পড়ে ফেলা লাগবে।

    একবসায় টানা শেষ করে ফেলার মতো বই। গতানুগতিক হরর না, কিংবদন্তী লেখক এইচ পি লাভক্র্যাফটের সৃষ্ট কসমিক হরর/ লাভক্র্যাফটিয়ান হররের প্রতি ট্রিবিউট করে লেখা নভেলা। লাভক্রাফট জনরার মতোই ডিসটার্বিং, উদ্ভট আর ব্যাখ্যাতিত। ভিন্নস্বাদের ঝরঝরে লেখা, গল্পের গাঁথুনিও ভালো। সবমিলিয়ে ৫ এ ৩.৮।

    পুনশ্চ- এটা পড়ে লাভক্র্যাফটের প্রতি আবার আগ্রহ জন্মালো। দুই একটা গল্প ছাড়া তেমন কিছু পড়া হয়নাই, এইবেলা দেরী না করে একটানা পড়ে ফেলা লাগবে।

  • Shuk Pakhi

    মানব জাতির অনতিমকাল চলে এসেছে। না আমেরিকা-রাশিয়ার পারমানবিক যুদধ শুরু হয়নি, না কোন পরযুকতি বযাকফায়ার করেছে, না জলবায়ুর পরিবরতনে সমুদরের পানি এসে ভাসিয়েছে সব।

    যারা এসেছে তারা মানব জাতির পুরবে রাজতব করতো পৃথিবীতে। এতদিন ছিল লুকিয়ে লোকচকষুর অনতরালে। কিনতু এখন সময় পরায় হয়ে এসেছে। তারা আবার দখল নেবে পৃথিবীর।

    “তরিৎ ছিল, তরীৎ আছে, তরীৎ থাকবে।“

    বহু বছর আগে একরাতের মধযেই তরীৎরা সাবড়ে দিয়েছিল অসটরেলিয়ার পুরো একটি গরাম। একজনও বাঁচেনি। তরীৎরা ফিরতে শুরু করেছে। এবার দেখা পাওয়া গেছে বাংলাদেশে। ঘটনাচকরে তারা চোখে

    মানব জাতির অন্তিমকাল চলে এসেছে। না আমেরিকা-রাশিয়ার পারমানবিক যুদ্ধ শুরু হয়নি, না কোন প্রযুক্তি ব্যাকফায়ার করেছে, না জলবায়ুর পরিবর্তনে সমুদ্রের পানি এসে ভাসিয়েছে সব।

    যারা এসেছে তারা মানব জাতির পুর্বে রাজত্ব করতো পৃথিবীতে। এতদিন ছিল লুকিয়ে লোকচক্ষুর অন্তরালে। কিন্তু এখন সময় প্রায় হয়ে এসেছে। তারা আবার দখল নেবে পৃথিবীর।

    “ত্রিৎ ছিল, ত্রীৎ আছে, ত্রীৎ থাকবে।“

    বহু বছর আগে একরাতের মধ্যেই ত্রীৎরা সাবড়ে দিয়েছিল অস্ট্রেলিয়ার পুরো একটি গ্রাম। একজনও বাঁচেনি। ত্রীৎরা ফিরতে শুরু করেছে। এবার দেখা পাওয়া গেছে বাংলাদেশে। ঘটনাচক্রে তারা চোখে পরে যায় মোটর পার্টসের দোকানী সাচ্চুর। রাতের দেখা মাছের আশে গা মুড়ানো, মাথায় শুড় লাগানো আশটে গন্ধের ত্রীৎদের কথা অন্যদের বলতে গেলে সবাই ভাবে পাগল। একঘটনার প্রেক্ষিতে বিশিষ্ট লেখক আসগর সাহেব থাকতে যান ঐ বস্তিতে। সাচ্চুর কথায় তিনি নামেন ত্রীৎ দেখার রাতের অভিযানে, ইচ্ছা লেখার নতুন প্লট আবিষ্কার।

    সেই অদ্ভূত রাতে পরিচয় ঘটে বহু বছর ধরে ত্রীৎ-এর পেছনে ছুটা গবেষক রেহমান সিদ্দীক আর তার বোনের সাথে।

    এগিয়ে আসছে লড়াই। ত্রীৎরা অপেক্ষা করছে শুধু একজনের জন্য। তার আগমন অবসম্ভাবি। হে মানবজাতি সাবধান হও! ত্রীৎ আসছে তাদের সর্বশক্তি নিয়ে।

    এবইয়ের প্রতি একটাই অভিযোগ এত তাড়াতাড়ি কেন শেষ হয়ে গেলো! লেখকের হাত ভালো, পড়া শুরু করলেই বইয়ের কাহিনীতে ঢুকে যাবেন পাঠক।

  • Misba Misba

    শুরুতেই কিছু এলারট দিয়ে রাখি এই বইয়ের ভাবী-পাঠকদের –

    ১। বইয়ের পরথম ৩০ পৃষঠা পরযনত যে সমসতই তুচছ ঘটনা/ বরননা/ দৃশয/ সেকসুয়াল দৃশয যাইই এসেছে পরথমে সেসব যদি মনে হয় “১০০ পৃষঠার বইতে এতো অপরয়োজনীয় দৃশয কেন?” তাহলে বলবো চিনতা করবেন না। পরতিটি ছোট খাটো ইসযুই পলটের জনয গুরুতবপূরণ।

    ২। পরথমে বরননা পড়ে যদি মনে হয় লেখক এটেনশন সিকিং এর জনয অশলীল কথা/ শবদ/ অশলীল পরি-দৃশয বযবহার করেছেন – তাহলে আবার বলবো, সটোরি পুরোটা পড়লে বোঝা যাবে পলটের কাজেই এসেছে।

    ৩। এলিসের গলপে পরথম দু/তিন পেইজ পড়ে যদি মনে হয় – লেখক কি ছযাঁ

    শুরুতেই কিছু এলার্ট দিয়ে রাখি এই বইয়ের ভাবী-পাঠকদের –

    ১। বইয়ের প্রথম ৩০ পৃষ্ঠা পর্যন্ত যে সমস্তই তুচ্ছ ঘটনা/ বর্ননা/ দৃশ্য/ সেক্সুয়াল দৃশ্য যাইই এসেছে প্রথমে সেসব যদি মনে হয় “১০০ পৃষ্ঠার বইতে এতো অপ্রয়োজনীয় দৃশ্য কেন?” তাহলে বলবো চিন্তা করবেন না। প্রতিটি ছোট খাটো ইস্যুই প্লটের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

    ২। প্রথমে বর্ননা পড়ে যদি মনে হয় লেখক এটেনশন সিকিং এর জন্য অশ্লীল কথা/ শব্দ/ অশ্লীল প্রি-দৃশ্য ব্যবহার করেছেন – তাহলে আবার বলবো, স্টোরি পুরোটা পড়লে বোঝা যাবে প্লটের কাজেই এসেছে।

    ৩। এলিসের গল্পে প্রথম দু/তিন পেইজ পড়ে যদি মনে হয় – লেখক কি ছ্যাঁকা খেয়েছে, এই কাহিনীর কি দরকার ছিলো মাঝখানে (আমার মনে হয়েছিলো) কিন্তু সে চ্যাপ্টার পুরোটা পড়ার পর আবারো বুঝলাম এটাও প্লটের দরকারে এসেছে।

    ৪। একই কথা ঐ দ্বীপের কাহিনীর ক্ষেত্রেও বলা যায়।

    এবার আমার পাঠ প্রতিক্রিয়া + রিভিউতে আসি –

    ১। নভেলাটি শুধু হরর না। বইয়ের ভূমিকায় অবশ্য লাভক্রাফটিয়ান হরর বলা আছে। যেটার এলিয়েন-হররই বোঝায়।

    ২। এই প্রথম বর্ননা নির্ভর থ্রিলার-হরর পড়লাম অথচ ঘুম চলে আসলো না; শুরুর দিকের পরিবেশের বর্ননা একদম ক্লাসিক যুগের দক্ষ সমকালীন লেখকদের মতো। অলস পরিস্থিতি আর বস্তির বর্ননা আমার চোখে ভেসেছে বলা উচিৎ। ইদানিংকার পড়া বইগুলো ফাস্ট-রিড করা হচ্ছিলো। বিশেষ করে প্রথম দিকের পৃষ্ঠাগুলো ফাস্ট রিড করতে বাধ্য হতাম। কিন্তু এটার ক্ষেত্রে উলটো ঘটেছে। সমকালীন উপন্যাসের মতো বর্ননা বস্তি আর প্রধান একটি চরিত্রের – যেটা শুরুতে কিছুতেই মাথায় আসে না একটা হরর স্টোরিতে এসবের কি দরকার; অথচ এই গভীর রাতের দু’তিন ঘন্টায় আমার ফাস্ট রিড করা লাগলো না, ঘুম চলে আসলো না – তাতেই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি আজ রাতেই রিভিউ লিখবো, অনুভূতি থাকতে থাকতে। পরিবেশ বর্ননাকে জীবন্ত করে তুলতে বাস্তব জগতকে প্রগাঢ় পর্যবেক্ষণ নিয়ে দেখতে জানতে হয়; যার ছাপ খুব কম লেখকের মাঝেই দেখেছি।

    ৩। এলার্ট প্যারার দুই নাম্বার পয়েন্ট নিয়ে আমার ১০% দ্বিধা আছে।

    ৪। এলিস আর ঐ দ্বীপের কাহিনীটা হুট করে এসে আবার হুট করে শেষ – তাই ছন্দে একটু বাধা পেলাম মনে হলো। কয়েকটা চ্যপ্টার পরপর কাহিনীগুলো আসলে ভালো হতো কিনা মনে হয়েছিলো; পরে ভাবনা নাকচ করে দিলাম। কারণ কয়েকটা ভাগে ওদের কাহিনীগুলো বললে, অর্থাৎ মাঝেপথে থামালে আসলেই পাঠকের কাছে “ইউজলেস” টপিক ভেবে বিরক্ত লাগতে পারত। পুরো গল্প বলাটা একটু অন্যরকম ছিলো। আমার মনে হয় এটা লেখকের নিজস্ব এক্সপেরিমেন্ট। যেটা খারাপ হয়নি। তবে এটা ঠিক শেষার্ধে ডায়ালগের অভাব অনুভূত হয়েছে। বর্ননামূলক ব্যাপারটা প্রকট হয়ে গিয়েছে। যদিও সাপেন্স এবং শেষ করার ইচ্ছেটা কমেনি মোটেও।

    ৫। বই আমার পছন্দ হয়েছে। কভারও। আজকালকার বইতে শুধু হিজিবিজি ফোটোশপড, পঁচা ম্যাশআপের কভার থাকে, ভেতরের সাথে কোন মিলও থাকে না। কিন্তু এটার কভার ক্লিন, মিনিংফুল এবং ভেতরের সাথে শতভাগ মিল আছে। ৮০ পেইজ পড়ার পর লেখকের জন্মদিন চেক করতে (রাশি অনুমান করেছিলাম; ভুল হয়েছে :/ ) ফেবু খুঁজে দেখি লেখক আমার ফ্রেন্ড লিস্টেই আছেন! :O

Best Free Books is in no way intended to support illegal activity. Use it at your risk. We uses Search API to find books/manuals but doesn´t host any files. All document files are the property of their respective owners. Please respect the publisher and the author for their copyrighted creations. If you find documents that should not be here please report them


©2018 Best Free Books - All rights reserved.